সূরা
২২আল হাজ্জ্ব
সূচনা • ৭৮ মাদানী
mosque
Bismillah

يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ ٱتَّقُواْ رَبَّكُمۡۚ إِنَّ زَلۡزَلَةَ ٱلسَّاعَةِ شَيۡءٌ عَظِيمٞ ١

ইয়াআইয়্যুহাননা সুত্তাক্বু রব্বাকুম, ইননা যালযালাতাচ্ছা‘আতি শাইউন ‘আজীম।

হে মানুষ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় কর, কিয়ামাতের কম্পন এক ভয়ানক জিনিস।
হে মানুষ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় কর, কিয়ামাতের কম্পন এক ভয়ানক জিনিস।
২২:১

يَوۡمَ تَرَوۡنَهَا تَذۡهَلُ كُلُّ مُرۡضِعَةٍ عَمَّآ أَرۡضَعَتۡ وَتَضَعُ كُلُّ ذَاتِ حَمۡلٍ حَمۡلَهَا وَتَرَى ٱلنَّاسَ سُكَٰرَىٰ وَمَا هُم بِسُكَٰرَىٰ وَلَٰكِنَّ عَذَابَ ٱللَّهِ شَدِيدٞ ٢

ইয়াওমা তারওনাহা তায্হালু কুল্লু মুরদ্বি‘আতিন ‘আমমা আরদা‘আত ওয়া তাদ্বা‘উ কুল্লু যাতি হামলিন হামলাহা ওয়া তারননাসা সুকার ওয়ামাহুম বিসুকার ওয়ালাকিননা ‘আযাবাল্লাহি শাদীদ।

সেদিন তুমি দেখবে প্রতিটি দুগ্ধদায়িনী ভুলে যাবে তার দুগ্ধপোষ্য শিশুকে, আর প্রত্যেক গর্ভবতী গর্ভপাত করে ফেলবে, আর মানুষকে দেখবে মাতাল, যদিও তারা প্রকৃতপক্ষে মাতাল নয়, কিন্তু আল্লাহর শাস্তি বড়ই কঠিন (যার কারণে তাদের ঐ অবস্থা ঘটবে)।
সেদিন তুমি দেখবে প্রতিটি দুগ্ধদায়িনী ভুলে যাবে তার দুগ্ধপোষ্য শিশুকে, আর প্রত্যেক গর্ভবতী গর্ভপাত করে ফেলবে, আর মানুষকে দেখবে মাতাল, যদিও তারা প্রকৃতপক্ষে মাতাল নয়, কিন্তু আল্লাহর শাস্তি বড়ই কঠিন (যার কারণে তাদের ঐ অবস্থা ঘটবে)।
২২:২

وَمِنَ ٱلنَّاسِ مَن يُجَٰدِلُ فِي ٱللَّهِ بِغَيۡرِ عِلۡمٖ وَيَتَّبِعُ كُلَّ شَيۡطَٰنٖ مَّرِيدٖ ٣

ওয়া মিনাননাসি মাইঁ ইয়ুজাদিলু ফিল্লাহি বিগইরি ‘ইলমিওঁ ওয়া ইয়াত্তাবি‘উ কুল্লা শাইত্বানিম মারীদিং।

কতক মানুষ জ্ঞান ছাড়াই আল্লাহ সম্বন্ধে বাদানুবাদ করে, আর প্রত্যেক অবাধ্য শয়ত্বানের অনুসরণ করে।
কতক মানুষ জ্ঞান ছাড়াই আল্লাহ সম্বন্ধে বাদানুবাদ করে, আর প্রত্যেক অবাধ্য শয়ত্বানের অনুসরণ করে।
২২:৩

كُتِبَ عَلَيۡهِ أَنَّهُۥ مَن تَوَلَّاهُ فَأَنَّهُۥ يُضِلُّهُۥ وَيَهۡدِيهِ إِلَىٰ عَذَابِ ٱلسَّعِيرِ ٤

কুতিবা ‘আলাইহি আননাহূ মাং তাওয়াল্লহু ফাআননাহূ ইয়ুদ্বিল্লুহূ ওয়া ইয়াহ্দীহি ইলা ‘আযাবিচ্ছা‘ইর।

যার (অর্থাৎ শয়ত্বানের) সম্পর্কে বিধান করা হয়েছে যে, যে কেউ তার সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়বে, সে তাকে বিপথগামী করবে, আর তাকে প্রজ্জ্বলিত অগ্নি শাস্তির দিকে পরিচালিত করবে।
যার (অর্থাৎ শয়ত্বানের) সম্পর্কে বিধান করা হয়েছে যে, যে কেউ তার সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়বে, সে তাকে বিপথগামী করবে, আর তাকে প্রজ্জ্বলিত অগ্নি শাস্তির দিকে পরিচালিত করবে।
২২:৪

يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ إِن كُنتُمۡ فِي رَيۡبٖ مِّنَ ٱلۡبَعۡثِ فَإِنَّا خَلَقۡنَٰكُم مِّن تُرَابٖ ثُمَّ مِن نُّطۡفَةٖ ثُمَّ مِنۡ عَلَقَةٖ ثُمَّ مِن مُّضۡغَةٖ مُّخَلَّقَةٖ وَغَيۡرِ مُخَلَّقَةٖ لِّنُبَيِّنَ لَكُمۡۚ وَنُقِرُّ فِي ٱلۡأَرۡحَامِ مَا نَشَآءُ إِلَىٰٓ أَجَلٖ مُّسَمّٗى ثُمَّ نُخۡرِجُكُمۡ طِفۡلٗا ثُمَّ لِتَبۡلُغُوٓاْ أَشُدَّكُمۡۖ وَمِنكُم مَّن يُتَوَفَّىٰ وَمِنكُم مَّن يُرَدُّ إِلَىٰٓ أَرۡذَلِ ٱلۡعُمُرِ لِكَيۡلَا يَعۡلَمَ مِنۢ بَعۡدِ عِلۡمٖ شَيۡـٔٗاۚ وَتَرَى ٱلۡأَرۡضَ هَامِدَةٗ فَإِذَآ أَنزَلۡنَا عَلَيۡهَا ٱلۡمَآءَ ٱهۡتَزَّتۡ وَرَبَتۡ وَأَنۢبَتَتۡ مِن كُلِّ زَوۡجِۭ بَهِيجٖ ٥

ইয়াআইয়্যুহাননাসু ইং কুংতুম ফী রইবিম মিনাল বা‘ছি ফাইননা খলাক্বনাকুম মিং তুরবিং ছুমমা মিন নুত্বফাতিং ছুমমা মিন ‘আলাক্বতিং ছুমমা মিম মুদ্বগতিম মুখল্লাক্বতিওঁ ওয়া গইরি মুখল্লাক্বতিল লিনুবাইয়্যিনা লাকুম; ওয়া নুক্বিররু ফিল আরহামি মানাশাউ ইলা আজালিম মুসামমাং ছুমমা নুখরিজুকুম ত্বিফলাং ছুমমা লিতাবলুগু আশুদ্দাকুম, ওয়া মিংকুম মাইঁ ইয়ুতাওয়াফ্যাওয়া মিংকুম মাইঁ ইয়ুরদ্দু ইলা আরযালিল ‘উমুরি লিকাইলা ইয়া‘লামা মিম বা‘দি ‘ইলমিন শাইআন; ওয়া তারল আরদা হামিদাতাং ফাইযা আংযালনা ‘আলাইহাল মাআহ্তাযযাত ওয়ারবাত ওয়া আমবাতাত মিং কুল্লি যাওজিম বাহীজ।

হে মানুষ! পুনরুত্থানের ব্যাপারে যদি তোমরা সন্দিহান হও, তাহলে (চিন্তা করে দেখ) আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি মাটি থেকে, অতঃপর শুক্র হতে, অতঃপর জমাট রক্ত থেকে, অতঃপর মাংসপিন্ড হতে পূর্ণ আকৃতিবিশিষ্ট বা অপূর্ণ আকৃতিবিশিষ্ট অবস্থায় (আমার শক্তি-ক্ষমতা) তোমাদের সামনে স্পষ্ট করে তুলে ধরার জন্য। আর আমি যাকে ইচ্ছে করি তাকে একটা নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত মাতৃগর্ভে রাখি, অতঃপর তোমাদেরকে বের করে আনি শিশুরূপে, অতঃপর (লালন পালন) করি যাতে তোমরা তোমাদের পূর্ণ শক্তির বয়সে পৌঁছতে পার। তোমাদের কারো কারো মৃত্যু ঘটাই, আর কতককে ফিরিয়ে দেয়া হয় নিস্ক্রিয় বার্ধক্যে যাতে (অনেক) জ্ঞান লাভের পরেও তাদের আর কোন জ্ঞান থাকে না। অতঃপর (আরো) তোমরা ভূমিকে দেখ শুষ্ক, মৃত; অতঃপর আমি যখন তাতে পানি বর্ষণ করি তখন তাতে প্রাণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়, তা আন্দোলিত ও স্ফীত হয়, আর তা উদগত করে সকল প্রকার নয়নজুড়ানো উদ্ভিদ (জোড়ায় জোড়ায়)।
হে মানুষ! পুনরুত্থানের ব্যাপারে যদি তোমরা সন্দিহান হও, তাহলে (চিন্তা করে দেখ) আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি মাটি থেকে, অতঃপর শুক্র হতে, অতঃপর জমাট রক্ত থেকে, অতঃপর মাংসপিন্ড হতে পূর্ণ আকৃতিবিশিষ্ট বা অপূর্ণ আকৃতিবিশিষ্ট অবস্থায় (আমার শক্তি-ক্ষমতা) তোমাদের সামনে স্পষ্ট করে তুলে ধরার জন্য। আর আমি যাকে ইচ্ছে করি তাকে একটা নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত মাতৃগর্ভে রাখি, অতঃপর তোমাদেরকে বের করে আনি শিশুরূপে, অতঃপর (লালন পালন) করি যাতে তোমরা তোমাদের পূর্ণ শক্তির বয়সে পৌঁছতে পার। তোমাদের কারো কারো মৃত্যু ঘটাই, আর কতককে ফিরিয়ে দেয়া হয় নিস্ক্রিয় বার্ধক্যে যাতে (অনেক) জ্ঞান লাভের পরেও তাদের আর কোন জ্ঞান থাকে না। অতঃপর (আরো) তোমরা ভূমিকে দেখ শুষ্ক, মৃত; অতঃপর আমি যখন তাতে পানি বর্ষণ করি তখন তাতে প্রাণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়, তা আন্দোলিত ও স্ফীত হয়, আর তা উদগত করে সকল প্রকার নয়নজুড়ানো উদ্ভিদ (জোড়ায় জোড়ায়)।
২২:৫

ذَٰلِكَ بِأَنَّ ٱللَّهَ هُوَ ٱلۡحَقُّ وَأَنَّهُۥ يُحۡيِ ٱلۡمَوۡتَىٰ وَأَنَّهُۥ عَلَىٰ كُلِّ شَيۡءٖ قَدِيرٞ ٦

যালিকা বিআননাল্লহা হুওয়াল হাক্বক্বু ওয়া আননাহূ ইয়ুহ্য়িল মাওতা ওয়া আননাহূ ‘আলা কুল্লি শাইয়িং ক্বদীরুও।

এ রকম হয় এজন্য যে, আল্লাহ হলেন সত্য সঠিক, আর তিনিই মৃতকে জীবিত করেন, আর তিনি সকল বিষয়ে ক্ষমতাবান।
এ রকম হয় এজন্য যে, আল্লাহ হলেন সত্য সঠিক, আর তিনিই মৃতকে জীবিত করেন, আর তিনি সকল বিষয়ে ক্ষমতাবান।
২২:৬

وَأَنَّ ٱلسَّاعَةَ ءَاتِيَةٞ لَّا رَيۡبَ فِيهَا وَأَنَّ ٱللَّهَ يَبۡعَثُ مَن فِي ٱلۡقُبُورِ ٧

ওয়া আননাচ্ছা‘আতা আতিয়াতুল লারইবা ফীহা ওয়া আননাল্লহা ইয়াব্‘আছু মাং ফিল ক্বুবুর।

আর কিয়ামাত অবশ্যই আসবে, এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই এবং যারা কবরে আছে আল্লাহ তাদেরকে অবশ্যই পুনরুত্থিত করবেন।
আর কিয়ামাত অবশ্যই আসবে, এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই এবং যারা কবরে আছে আল্লাহ তাদেরকে অবশ্যই পুনরুত্থিত করবেন।
২২:৭

وَمِنَ ٱلنَّاسِ مَن يُجَٰدِلُ فِي ٱللَّهِ بِغَيۡرِ عِلۡمٖ وَلَا هُدٗى وَلَا كِتَٰبٖ مُّنِيرٖ ٨

ওয়া মিনাননাসি মাইঁ ইয়ুজাদিলু ফিল্লাহি বিগইরি ‘ইলমিওঁ ওয়ালাহুদাওঁ ওয়ালাকিতাবিম মুনীর।

তবুও মানুষের মধ্যে এমন আছে যারা জ্ঞান, পথের দিশা ও কোন আলোকপ্রদানকারী কিতাব ছাড়াই আল্লাহ সম্পর্কে বিতর্ক করে।
তবুও মানুষের মধ্যে এমন আছে যারা জ্ঞান, পথের দিশা ও কোন আলোকপ্রদানকারী কিতাব ছাড়াই আল্লাহ সম্পর্কে বিতর্ক করে।
২২:৮

ثَانِيَ عِطۡفِهِۦ لِيُضِلَّ عَن سَبِيلِ ٱللَّهِۖ لَهُۥ فِي ٱلدُّنۡيَا خِزۡيٞۖ وَنُذِيقُهُۥ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِ عَذَابَ ٱلۡحَرِيقِ ٩

ছানিয়া ‘ইত্বফিহী লিয়ুদ্বিল্লা ‘আং সাবীলিল্লাহি; লাহূ ফিদ দুনিয়া খিঝ্য়ুওঁ ওয়া নুযীক্বুহূ ইয়াওমাল ক্বিয়ামাতি ‘আযাবাল হারীক্ব।

(বিতর্ক করে অবজ্ঞাভরে) ঘাড় বাঁকিয়ে (লোকেদেরকে) আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করার উদ্দেশে। তার জন্য আছে লাঞ্ছনা এ দুনিয়াতে, আর কিয়ামাতের দিন তাকে আস্বাদন করাব (অগ্নির) দহন যন্ত্রণা।
(বিতর্ক করে অবজ্ঞাভরে) ঘাড় বাঁকিয়ে (লোকেদেরকে) আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করার উদ্দেশে। তার জন্য আছে লাঞ্ছনা এ দুনিয়াতে, আর কিয়ামাতের দিন তাকে আস্বাদন করাব (অগ্নির) দহন যন্ত্রণা।
২২:৯

ذَٰلِكَ بِمَا قَدَّمَتۡ يَدَاكَ وَأَنَّ ٱللَّهَ لَيۡسَ بِظَلَّٰمٖ لِّلۡعَبِيدِ ١٠

যালিকা বিমাক্বদ্দামাত ইয়াদাকা ওয়া আননাল্লহা লাইসা বিজাল্লামিল লিল ‘আবীদ।

(বলা হবে) তোমার হাত দু’খানা আগেই যা পাঠিয়েছিল এটা তারই ফল, কারণ আল্লাহ তো তাঁর বান্দাহদের প্রতি যালিম নন।
(বলা হবে) তোমার হাত দু’খানা আগেই যা পাঠিয়েছিল এটা তারই ফল, কারণ আল্লাহ তো তাঁর বান্দাহদের প্রতি যালিম নন।
২২:১০

وَمِنَ ٱلنَّاسِ مَن يَعۡبُدُ ٱللَّهَ عَلَىٰ حَرۡفٖۖ فَإِنۡ أَصَابَهُۥ خَيۡرٌ ٱطۡمَأَنَّ بِهِۦۖ وَإِنۡ أَصَابَتۡهُ فِتۡنَةٌ ٱنقَلَبَ عَلَىٰ وَجۡهِهِۦ خَسِرَ ٱلدُّنۡيَا وَٱلۡأٓخِرَةَۚ ذَٰلِكَ هُوَ ٱلۡخُسۡرَانُ ٱلۡمُبِينُ ١١

ওয়া মিনাননাসি মাইঁ ইয়া‘বুদুল্লহা ‘আলা হারফিং, ফাইন আছবাহূ খইরুনিত্বমাআননা বিহী; ওয়া ইন আছবাত্হু ফিতনাতু নিংক্বলাবা ‘আলাওয়াজ্হিহী, খসিরদ দুনিয়া ওয়াল আখিরতা; যালিকা হুওয়াল খুসরনুল মুবীন।

মানুষের মধ্যে এমন কতক আছে যারা শেষ সীমায় অবস্থান করে আল্লাহর ‘ইবাদাত করে। অতঃপর তার কল্যাণ হলে, তা নিয়ে সে তৃপ্ত থাকে, আর কোন পরীক্ষার সম্মুখীন হলে সে তার পূর্বের অবস্থায় ফিরে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় সে দুনিয়াতেও আর আখিরাতেও- এটাই হল স্পষ্ট ক্ষতি।
২২:১১

يَدۡعُواْ مِن دُونِ ٱللَّهِ مَا لَا يَضُرُّهُۥ وَمَا لَا يَنفَعُهُۥۚ ذَٰلِكَ هُوَ ٱلضَّلَٰلُ ٱلۡبَعِيدُ ١٢

ইয়াদ্‘উমিং দূনিল্লাহি মালাইয়াদ্বুররুহূ ওয়ামালাইয়াংফা‘উহূ; যালিকা হুওয়া দ্ব্দ্বালালুল বা‘ইদ।

আল্লাহকে বাদ দিয়ে সে এমন কিছুকে ডাকে যা না পারে তার কোন ক্ষতি করতে আর না পারে কোন উপকার করতে, এটাই হল চরম আকারের গুমরাহী।
২২:১২

يَدۡعُواْ لَمَن ضَرُّهُۥٓ أَقۡرَبُ مِن نَّفۡعِهِۦۚ لَبِئۡسَ ٱلۡمَوۡلَىٰ وَلَبِئۡسَ ٱلۡعَشِيرُ ١٣

ইয়াদ্‘উ লামাং দ্বররুহূ আক্বরবূ মিন নাফ্‘ইহী; লাবি’সাল মাওলা ওয়া লাবি’সাল ‘আশীর।

সে এমন কিছুকে ডাকে যার লাভের চেয়ে ক্ষতিই নিকটবর্তী, কত মন্দই না এই অভিভাবক, আর কত মন্দই না এই সঙ্গী!
২২:১৩

إِنَّ ٱللَّهَ يُدۡخِلُ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَعَمِلُواْ ٱلصَّٰلِحَٰتِ جَنَّٰتٖ تَجۡرِي مِن تَحۡتِهَا ٱلۡأَنۡهَٰرُۚ إِنَّ ٱللَّهَ يَفۡعَلُ مَا يُرِيدُ ١٤

ইননাল্লহা ইয়ুদখিলুল্লাযীনা আমানূ ওয়া ‘আমিলুছছালিহাতি জাননাতিং তাজরী মিং তাহতিহাল আনহারু; ইননাল্লহা ইয়াফ্‘আলু মাইয়ুরীদ।

যারা ঈমান আনে ও সৎ কাজ করে আল্লাহ তাদেরকে দাখিল করবেন জান্নাতে যার নিম্নদেশ দিয়ে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত, আল্লাহ যা করতে চান, তাই করেন।
২২:১৪

مَن كَانَ يَظُنُّ أَن لَّن يَنصُرَهُ ٱللَّهُ فِي ٱلدُّنۡيَا وَٱلۡأٓخِرَةِ فَلۡيَمۡدُدۡ بِسَبَبٍ إِلَى ٱلسَّمَآءِ ثُمَّ لۡيَقۡطَعۡ فَلۡيَنظُرۡ هَلۡ يُذۡهِبَنَّ كَيۡدُهُۥ مَا يَغِيظُ ١٥

মাং কানা ইয়াজুন্নু আল্লাইঁ ইয়াংছুরহুল্লহু ফিদ দুন্য়া ওয়াল আখিরতি ফালইয়ামদুদ বিসাবাবিন ইলাচ্ছামাই ছুমমাল ইক্বত্বা‘ ফালইয়াংজ্বুর হাল ইয়ুয্হিবাননা কাইদুহূ মা ইয়াগীজ।

যে কেউ ধারণা করে যে আল্লাহ তাকে (অর্থাৎ তাঁর রসূলকে) কক্ষনো দুনিয়া ও আখিরাতে সাহায্য করবেন না, তাহলে সে আকাশ পর্যন্ত একটা দড়ি ঝুলিয়ে নিক, অতঃপর তা কেটে দিক, অতঃপর সে দেখুক তার কলা-কৌশল তার রাগের কারণ দূর করে কিনা। (রসূলের দুশমন নিজের ঝুলানো দড়িটাই কাটুক, কেননা সে তো রসূলের প্রতি আল্লাহর সাহায্যের দড়িটা কক্ষনো কাটতে পারবে না।)
২২:১৫

وَكَذَٰلِكَ أَنزَلۡنَٰهُ ءَايَٰتِۭ بَيِّنَٰتٖ وَأَنَّ ٱللَّهَ يَهۡدِي مَن يُرِيدُ ١٦

ওয়া কাযালিকা আংযালনাহু আয়াতিম বাইয়্যিনাতিওঁ ওয়া আননাল্লহা ইয়াহ্দী মাইঁ ইয়ুরীদ।

এভাবেই আমি স্পষ্ট নিদর্শনরূপে কুরআন অবতীর্ণ করেছি আর আল্লাহ যাকে চান সঠিক পথে পরিচালিত করেন।
২২:১৬

إِنَّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَٱلَّذِينَ هَادُواْ وَٱلصَّٰبِـِٔينَ وَٱلنَّصَٰرَىٰ وَٱلۡمَجُوسَ وَٱلَّذِينَ أَشۡرَكُوٓاْ إِنَّ ٱللَّهَ يَفۡصِلُ بَيۡنَهُمۡ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِۚ إِنَّ ٱللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيۡءٖ شَهِيدٌ ١٧

ইননাল্লাযীনা আমানূ ওয়াল্লাযীনা হাদূ ওয়াছছাবিইনা ওয়াননাছর ওয়াল মাজূসা ওয়াল্লাযীনা আশরকূ ইননাল্লহা ইয়াফছিলু বাইনাহুম ইয়াওমাল ক্বিয়ামাতি; ইননাল্লহা ‘আলা কুল্লি শাইয়িং শাহীদ।

যারা ঈমান এনেছে আর যারা ইয়াহূদী হয়েছে, আর যারা সাবিয়ী, নাসারা, অগ্নিপূজক ও মুশরিক, আল্লাহ কিয়ামাতের দিন এদের মধ্যে ফয়সালা করে দেবেন (যে কারা সঠিক পথে আছে), কারণ আল্লাহ সব কিছুর প্রত্যক্ষদর্শী।
২২:১৭

أَلَمۡ تَرَ أَنَّ ٱللَّهَ يَسۡجُدُۤ لَهُۥۤ مَن فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَن فِي ٱلۡأَرۡضِ وَٱلشَّمۡسُ وَٱلۡقَمَرُ وَٱلنُّجُومُ وَٱلۡجِبَالُ وَٱلشَّجَرُ وَٱلدَّوَآبُّ وَكَثِيرٞ مِّنَ ٱلنَّاسِۖ وَكَثِيرٌ حَقَّ عَلَيۡهِ ٱلۡعَذَابُۗ وَمَن يُهِنِ ٱللَّهُ فَمَا لَهُۥ مِن مُّكۡرِمٍۚ إِنَّ ٱللَّهَ يَفۡعَلُ مَا يَشَآءُ ۩ ١٨

আলাম তার আননাল্লহা ইয়াস্জুদু লাহূ মাং ফিচ্ছামাওয়াতি ওয়া মাং ফিল আরদ্বি ওয়াশ শাম্সু ওয়াল ক্বমারু ওয়ান নুজূমু ওয়াল জিবালু ওয়াশ শাজারু ওয়াদ্দাওয়াব্বু ওয়া কাছীরুম মিনাননাসি; ওয়া কাছীরুন হাক্বক্বা ‘আলাইহিল ‘আযাবু; ওয়া মাইঁ ইয়ুহিনিল্লহু ফামালাহূ মিম মুকরিমিন, ইননাল্লহা ইয়াফ্‘আলু মায়াশাউ।

তুমি কি দেখ না যে আল্লাহকে সেজদা করে যারা আকাশে আছে, আর যারা পৃথিবীতে আছে আর সূর্য, চন্দ্র, তারকারাজি, পর্বতসমূহ, বৃক্ষরাজি, জীবজন্তু এবং মানুষের মধ্যে অনেকে? আর অনেকের প্রতি শাস্তি সাব্যস্ত হয়ে গেছে। আল্লাহ যাকে লাঞ্ছিত করতে চান, তাকে সম্মানিত করার কেউ নেই। আল্লাহ যা ইচ্ছে করেন তাই করেন।[সাজদাহ]
২২:১৮

۞ هَٰذَانِ خَصۡمَانِ ٱخۡتَصَمُواْ فِي رَبِّهِمۡۖ فَٱلَّذِينَ كَفَرُواْ قُطِّعَتۡ لَهُمۡ ثِيَابٞ مِّن نَّارٖ يُصَبُّ مِن فَوۡقِ رُءُوسِهِمُ ٱلۡحَمِيمُ ١٩

হাযানি খাছমানি খতাছমূ ফী রব্বিহিম, ফাল্লাযীনা কাফারূ ক্বুত্তি‘আত লাহুম ছিয়াবুম মিননারিন; ইয়ুছব্বু মিং ফাওক্বি রুউসিহিমুল হামীম।

এরা বিবাদের দু’টি পক্ষ, (মু’মিনরা একটি পক্ষ, আর সমস্ত কাফিররা আরেকটি পক্ষ) এরা এদের প্রতিপালক সম্বন্ধে বাদানুবাদ করে, অতঃপর যারা (তাদের প্রতিপালককে) অস্বীকার করে, তাদের জন্য তৈরি করা হয়েছে আগুনের পোশাক, তাদের মাথার উপর ঢেলে দেয়া হবে ফুটন্ত পানি।
২২:১৯

يُصۡهَرُ بِهِۦ مَا فِي بُطُونِهِمۡ وَٱلۡجُلُودُ ٢٠

ইয়ুছহারু বিহী মাফী বুত্বূনিহিম ওয়াল জুলূদ।

যা দিয়ে তাদের পেটে যা আছে তা ও তাদের চামড়া গলিয়ে দেয়া হবে।
২২:২০

وَلَهُم مَّقَٰمِعُ مِنۡ حَدِيدٖ ٢١

ওয়া লাহুম মাক্বমি‘উ মিন হাদীদ।

উপরন্তু তাদের (শাস্তির) জন্য থাকবে লোহার মুগুর।
২২:২১

كُلَّمَآ أَرَادُوٓاْ أَن يَخۡرُجُواْ مِنۡهَا مِنۡ غَمٍّ أُعِيدُواْ فِيهَا وَذُوقُواْ عَذَابَ ٱلۡحَرِيقِ ٢٢

কুল্লামা আরদু আইঁ ইয়াখরুজূ মিনহা মিন গম্মিন উ‘ইদূ ফীহা ওয়া যূক্বূ ‘আযাবাল হারীক্ব।

যখনই তারা যন্ত্রণার চোটে তাত্থেকে বেরিয়ে আসতে চাইবে (তখনই) তাদেরকে তার ভিতরে ফিরিয়ে দেয়া হবে, (আর বলা হবে, আগুনে) পুড়ার শাস্তি আস্বাদন কর।
২২:২২

إِنَّ ٱللَّهَ يُدۡخِلُ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَعَمِلُواْ ٱلصَّٰلِحَٰتِ جَنَّٰتٖ تَجۡرِي مِن تَحۡتِهَا ٱلۡأَنۡهَٰرُ يُحَلَّوۡنَ فِيهَا مِنۡ أَسَاوِرَ مِن ذَهَبٖ وَلُؤۡلُؤٗاۖ وَلِبَاسُهُمۡ فِيهَا حَرِيرٞ ٢٣

ইননাল্লহা ইয়ুদখিলুল্লাযীনা আমানূ ওয়া ‘আমিলুছছালিহাতি জাননাতিং তাজরী মিং তাহতিহাল আনহারু ইয়ুহাল্লাওনা ফীহা মিন আসাবিউর মিং যাহাবিওঁ ওয়া লু’লুআন, ওয়া লিবাসুহুম ফীহা হারীর।

যারা ঈমান আনে আর সৎ কাজ করে, আল্লাহ তাদেরকে দাখিল করবেন জান্নাতে যার তলদেশে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত। সেখানে তাদেরকে অলংকৃত করা হবে সোনার কাঁকন আর মুক্তা দিয়ে আর সেখানে তাদের পোশাক হবে রেশমের।
২২:২৩

وَهُدُوٓاْ إِلَى ٱلطَّيِّبِ مِنَ ٱلۡقَوۡلِ وَهُدُوٓاْ إِلَىٰ صِرَٰطِ ٱلۡحَمِيدِ ٢٤

ওয়া হুদূ ইলাত্ব ত্বইয়্যিবি মিনাল ক্বওলি, ওয়া হুদূ ইলা ছিরত্বিল হামীদ।

তাদেরকে (দুনিয়ার জীবনে) পথ দেখানো হয়েছিল পবিত্র বাক্যের (অর্থাৎ কালিমা তাইয়্যেবা বা আল-কুরআনের) দিকে আর তারা পরিচালিত হয়েছিল তাঁর পথে যিনি সকল প্রশংসার দাবীদার।
২২:২৪

إِنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ وَيَصُدُّونَ عَن سَبِيلِ ٱللَّهِ وَٱلۡمَسۡجِدِ ٱلۡحَرَامِ ٱلَّذِي جَعَلۡنَٰهُ لِلنَّاسِ سَوَآءً ٱلۡعَٰكِفُ فِيهِ وَٱلۡبَادِۚ وَمَن يُرِدۡ فِيهِ بِإِلۡحَادِۭ بِظُلۡمٖ نُّذِقۡهُ مِنۡ عَذَابٍ أَلِيمٖ ٢٥

ইননাল্লাযীনা কাফারূ ওয়া ইয়াছুদ্দূনা ‘আং সাবীলিল্লাহি ওয়াল মাসজিদিল হারমিল্লাযী জা‘আলনাহু লিননাসি সাওয়াআনিল ‘আকিফু ফীহি ওয়াল বাদি, ওয়ামাইঁ ইয়ুরিদ ফীহি বিইল্হাদিম বিজুলমিন নুযিক্বহু মিন ‘আযাবিন আলীম।

যারা কুফুরী করে আর আল্লাহর পথে (মানুষের চলার ক্ষেত্রে) বাধা সৃষ্টি করে আর মাসজিদে হারামে যেতেও- যাকে আমি করেছি স্থানীয় বাসিন্দা ও অন্যদেশবাসী সকলের জন্য সমান। যে তাতে অন্যায়ভাবে কোন ধর্মদ্রোহী কাজ করার ইচ্ছে করে তাকে আমি আস্বাদন করাব ভয়াবহ শাস্তি।
২২:২৫

وَإِذۡ بَوَّأۡنَا لِإِبۡرَٰهِيمَ مَكَانَ ٱلۡبَيۡتِ أَن لَّا تُشۡرِكۡ بِي شَيۡـٔٗا وَطَهِّرۡ بَيۡتِيَ لِلطَّآئِفِينَ وَٱلۡقَآئِمِينَ وَٱلرُّكَّعِ ٱلسُّجُودِ ٢٦

ওয়া ইয বাওঁওয়া’না লিইবরহীমা মাকানাল বাইতি আল্লাতুশরিক বী শাইআওঁ ওয়া ত্বহ্হির বাইতিয়া লিত্ত্বাইফীনা ওয়ালক্বইমীনা ওয়ার রুক্কা‘ইচ্ছুজূদ।

স্মরণ কর যখন আমি ইবরাহীমকে (পবিত্র) গৃহের স্থান চিহ্নিত করে দিয়েছিলাম, (তখন বলেছিলাম) আমার সাথে কোন কিছুকে অংশীদার গণ্য করবে না, আর আমার গৃহকে পবিত্র রাখবে তাওয়াফকারী, নামাযে কিয়ামকারী, রূকু‘কারী ও সেজদাকারীদের জন্য।
২২:২৬

وَأَذِّن فِي ٱلنَّاسِ بِٱلۡحَجِّ يَأۡتُوكَ رِجَالٗا وَعَلَىٰ كُلِّ ضَامِرٖ يَأۡتِينَ مِن كُلِّ فَجٍّ عَمِيقٖ ٢٧

ওয়া আয্যিং ফিন নাসি বিল হাজ্জি ইয়া’তূকা রিজালাওঁ ওয়া ‘আলা কুল্লি দ্বামিরিইঁ ইয়া’তীনা মিং কুল্লি ফাজ্জিন ‘আমীক্ব।

আর মানুষের মাঝে হাজ্জের ঘোষণা দাও, তারা তোমার কাছে আসবে পায়ে হেঁটে, আর সব (পথক্লান্ত) শীর্ণ উটের পিঠে, বহু দূরের গভীর পর্বত সংকুল পথ বেয়ে
২২:২৭

لِّيَشۡهَدُواْ مَنَٰفِعَ لَهُمۡ وَيَذۡكُرُواْ ٱسۡمَ ٱللَّهِ فِيٓ أَيَّامٖ مَّعۡلُومَٰتٍ عَلَىٰ مَا رَزَقَهُم مِّنۢ بَهِيمَةِ ٱلۡأَنۡعَٰمِۖ فَكُلُواْ مِنۡهَا وَأَطۡعِمُواْ ٱلۡبَآئِسَ ٱلۡفَقِيرَ ٢٨

লিয়াশহাদূ মানাফি‘আ লাহুম ওয়া ইয়ায্কুরুস্মাল্লাহি ফী আইয়্যামিম মা‘লূমাতিন ‘আলা মারযাক্বহুম মিম বাহীমাতিল আন্‘আমি, ফাকুলূ মিনহাওয়া আত্ব‘ইমুল বাইসাল ফাক্বীর।

যাতে তারা তাদের জন্য (এখানে রাখা দুনিয়া ও আখিরাতের) কল্যাণগুলো প্রত্যক্ষ করতে পারে আর তিনি তাদেরকে চতুষ্পদ জন্তু হতে যে রিযক দান করেছেন, নির্দিষ্ট দিনগুলোতে তার উপর আল্লাহর নাম উচ্চারণ করতে পারে। কাজেই তোমরা (নিজেরা) তাত্থেকে খাও আর দুঃস্থ অভাবীদের খাওয়াও।
২২:২৮

ثُمَّ لۡيَقۡضُواْ تَفَثَهُمۡ وَلۡيُوفُواْ نُذُورَهُمۡ وَلۡيَطَّوَّفُواْ بِٱلۡبَيۡتِ ٱلۡعَتِيقِ ٢٩

ছুমমাল ইয়াক্বদ্বূ তাফাছাহুম ওয়ালয়ূফূ নুযূরহুম ওয়াল ইয়াত্ত্বাওয়্যাফূ বিল বাইতিল ‘আতীক্ব।

অতঃপর তারা যেন তাদের দৈহিক অপরিচ্ছন্নতা দূর করে, তাদের মানৎ পূর্ণ করে আর প্রাচীন গৃহের তাওয়াফ করে।
২২:২৯

ذَٰلِكَۖ وَمَن يُعَظِّمۡ حُرُمَٰتِ ٱللَّهِ فَهُوَ خَيۡرٞ لَّهُۥ عِندَ رَبِّهِۦۗ وَأُحِلَّتۡ لَكُمُ ٱلۡأَنۡعَٰمُ إِلَّا مَا يُتۡلَىٰ عَلَيۡكُمۡۖ فَٱجۡتَنِبُواْ ٱلرِّجۡسَ مِنَ ٱلۡأَوۡثَٰنِ وَٱجۡتَنِبُواْ قَوۡلَ ٱلزُّورِ ٣٠

যালিকা ওয়া মাইঁ ইয়ু‘আজ্জিম হুরুমাতিল্লাহি ফাহুয়া খইরুল লাহূ ‘ইংদা রব্বিহী; ওয়া উহিল্লাত লাকুমুল আন্‘আমু ইল্লা মাইয়ুতলা ‘আলাইকুম ফাজ্তানিবুর রিজ্সা মিনাল আওছানি ওয়াজ্তানিবূ ক্বওলাযযূরি।

এটাই (হাজ্জ), যে কেউ আল্লাহর নির্ধারিত অনুষ্ঠানগুলোর সম্মান করবে, সেটা তার প্রতিপালকের নিকট তার জন্য উত্তম। চতুষ্পদ জন্তুগুলো তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে সেগুলো ছাড়া যেগুলোর ব্যাপারে তোমাদেরকে পড়ে শুনানো হয়েছে। কাজেই তোমরা মূর্তিদের অপবিত্রতা বর্জন কর আর মিথ্যে কথা পরিহার কর
২২:৩০

حُنَفَآءَ لِلَّهِ غَيۡرَ مُشۡرِكِينَ بِهِۦۚ وَمَن يُشۡرِكۡ بِٱللَّهِ فَكَأَنَّمَا خَرَّ مِنَ ٱلسَّمَآءِ فَتَخۡطَفُهُ ٱلطَّيۡرُ أَوۡ تَهۡوِي بِهِ ٱلرِّيحُ فِي مَكَانٖ سَحِيقٖ ٣١

হুনাফাআ লিল্লাহি গইর মুশরিকীনা বিহী; ওয়ামাইঁ ইয়ুশরিক বিল্লাহি ফাকাআননামা খরর মিনাচ্ছামাই ফাতাখ্ত্বাফুহু ত্ত্বইরু আও তাহ্উয়ী বিহির রীহু ফী মাকানিং সাহীক্ব।

আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ হয়ে তাঁর সাথে শরীক না করে। যে কেউ আল্লাহর সাথে শরীক করে সে যেন আকাশ থেকে পড়ে গেল, আর পাখী তাকে ছোঁ মেরে নিয়ে গেল কিংবা বাতাস তাকে উড়িয়ে নিয়ে দূরবর্তী স্থানে ছুঁড়ে ফেলে দিল।
২২:৩১

ذَٰلِكَۖ وَمَن يُعَظِّمۡ شَعَٰٓئِرَ ٱللَّهِ فَإِنَّهَا مِن تَقۡوَى ٱلۡقُلُوبِ ٣٢

যালিকা ওয়ামাইঁ ইয়ু‘আজ্জিম শা‘আইর ল্লাহি ফাইননাহা মিন তাক্বওয়াল ক্বুলূব।

এই (তার অবস্থা), আর যে কেউ আল্লাহর নিদর্শনগুলোকে সম্মান করবে সে তো তার অন্তরস্থিত আল্লাহ-ভীতি থেকেই তা করবে।
২২:৩২

لَكُمۡ فِيهَا مَنَٰفِعُ إِلَىٰٓ أَجَلٖ مُّسَمّٗى ثُمَّ مَحِلُّهَآ إِلَى ٱلۡبَيۡتِ ٱلۡعَتِيقِ ٣٣

লাকুম ফীহা মানাফি‘উ ইলা আজালিম মুসামমাং ছুমমা মাহিল্লুহা ইলাল বাইতিল ‘আতীক্ব।

এতে (অর্থাৎ কুরবানীর পশুতে) তোমাদের জন্য নানান উপকার রয়েছে এক নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত (কুরবানীর জায়গায় পৌঁছা পর্যন্ত তোমরা এই জন্তুগুলোর দ্বারা উপকৃত হতে পার), সর্বশেষে এগুলোর কুরবানীর স্থান হচ্ছে প্রাচীন ঘরের নিকট।
২২:৩৩

وَلِكُلِّ أُمَّةٖ جَعَلۡنَا مَنسَكٗا لِّيَذۡكُرُواْ ٱسۡمَ ٱللَّهِ عَلَىٰ مَا رَزَقَهُم مِّنۢ بَهِيمَةِ ٱلۡأَنۡعَٰمِۗ فَإِلَٰهُكُمۡ إِلَٰهٞ وَٰحِدٞ فَلَهُۥٓ أَسۡلِمُواْۗ وَبَشِّرِ ٱلۡمُخۡبِتِينَ ٣٤

ওয়া লিকুল্লি উমমাতিং জা‘আলনা মাংসাকাল লিয়ায্কুরুস্মাল্লাহি ‘আলা মা রযাক্বহুম মিম বাহীমাতিল আন্‘আমি; ফাইলাহুকুম ইলাহুওঁ ওয়াহিদুং ফালাহু আসলিমূ; ওয়া বাশশিরিল মুখ্বিতীন।

আমি প্রতিটি সম্প্রদায়ের জন্য (কুরবানীর) নিয়ম করে দিয়েছি। তাদেরকে চতুষ্পদ জন্তু হতে যে রিযক্ দেয়া হয়েছে সেগুলোর উপর তারা যেন আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে, (এই বিভিন্ন নিয়ম-পদ্ধতির মূল লক্ষ্য কিন্তু এক- আল্লাহর নির্দেশ পালন), কারণ তোমাদের উপাস্য একমাত্র উপাস্য, কাজেই তাঁর কাছেই আত্মসমর্পণ কর আর সুসংবাদ দাও সেই বিনীতদেরকে-
২২:৩৪

ٱلَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ ٱللَّهُ وَجِلَتۡ قُلُوبُهُمۡ وَٱلصَّٰبِرِينَ عَلَىٰ مَآ أَصَابَهُمۡ وَٱلۡمُقِيمِي ٱلصَّلَوٰةِ وَمِمَّا رَزَقۡنَٰهُمۡ يُنفِقُونَ ٣٥

আল্লাযীনা ইযাযুকিরল্লহু ওয়াজিলাত ক্বুলূবুহুম ওয়াছছাবিরীনা ‘আলামা আছবাহুম ওয়াল মুক্বীমিছছালাতি ওয়ামিমমা রযাক্বনাহুম ইয়ুংফিক্বূন।

‘আল্লাহ’ নামের উল্লেখ হলেই যাদের অন্তরাত্মা কেঁপে উঠে, যারা তাদের বিপদাপদে ধৈর্যধারণ করে, নামায কায়িম করে, আর তাদেরকে আমি যে রিযক্ দিয়েছি তাত্থেকে তারা ব্যয় করে।
২২:৩৫

وَٱلۡبُدۡنَ جَعَلۡنَٰهَا لَكُم مِّن شَعَٰٓئِرِ ٱللَّهِ لَكُمۡ فِيهَا خَيۡرٞۖ فَٱذۡكُرُواْ ٱسۡمَ ٱللَّهِ عَلَيۡهَا صَوَآفَّۖ فَإِذَا وَجَبَتۡ جُنُوبُهَا فَكُلُواْ مِنۡهَا وَأَطۡعِمُواْ ٱلۡقَانِعَ وَٱلۡمُعۡتَرَّۚ كَذَٰلِكَ سَخَّرۡنَٰهَا لَكُمۡ لَعَلَّكُمۡ تَشۡكُرُونَ ٣٦

ওয়ালবুদনা জা‘আলনাহা লাকুম মিং শা‘আইরিল্লাহি লাকুম ফীহাখইরুং ফায্কুরুস্মাল্লাহি ‘আলাইহা ছওয়াফফা; ফা ইযা ওয়াজাবাত জুনূবুহা ফাকুলূ মিনহা ওয়া আত্ব‘ইমুল ক্বনি‘আ ওয়াল মু‘তারর; কাযালিকা সাখখার্নাহা লাকুম লা‘আল্লাকুম তাশকুরূন।

আর (কুরবানীর) উটগুলোকে আমি করেছি আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম। তাতে তোমাদের জন্য কল্যাণ আছে, কাজেই সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো অবস্থায় ওগুলোর উপর তোমরা আল্লাহর নাম উচ্চারণ কর। যখন তা পার্শ্বভরে পড়ে যায়, তখন তাথেকে খাও আর যারা (ভিক্ষে না ক’রে) পরিতৃপ্ত থাকে তাদেরকে আর যারা কাকুতি মিনতি ক’রে যাচ্ঞা করে তাদেরকেও খাওয়াও। এভাবে আমি ওগুলোকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছি যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।
২২:৩৬

لَن يَنَالَ ٱللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَآؤُهَا وَلَٰكِن يَنَالُهُ ٱلتَّقۡوَىٰ مِنكُمۡۚ كَذَٰلِكَ سَخَّرَهَا لَكُمۡ لِتُكَبِّرُواْ ٱللَّهَ عَلَىٰ مَا هَدَىٰكُمۡۗ وَبَشِّرِ ٱلۡمُحۡسِنِينَ ٣٧

লাইঁ ইয়ানালাল্লহা লুহূমুহা ওয়ালাদিমাউহা ওয়ালাকিইঁ ইয়ানা লুহুত তাক্বওয়া মিংকুম; কাযালিকা ছাখখারহা লাকুম লিতুকাব্বিরুল্লহা ‘আলা মা হাদাকুম; ওয়া বাশশিরিল মুহ্সিনীন।

আল্লাহর কাছে ওগুলোর না গোশত পৌঁছে, আর না রক্ত পৌঁছে বরং তাঁর কাছে পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া। এভাবে তিনি ওগুলোকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন যাতে তোমরা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করতে পার এজন্য যে, তিনি তোমাদেরকে সঠিক পথ দেখিয়েছেন, কাজেই সৎকর্মশীলদেরকে তুমি সুসংবাদ দাও।
২২:৩৭

۞ إِنَّ ٱللَّهَ يُدَٰفِعُ عَنِ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْۗ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يُحِبُّ كُلَّ خَوَّانٖ كَفُورٍ ٣٨

ইননাল্লহা ইয়ুদাফি‘উ ‘আনিল্লাযীনা আমানূ; ইননাল্লহা লাইয়ুহিব্বু কুল্লা খওয়্যানিং কাফূর।

আল্লাহ মু’মিনদেরকে রক্ষা করেন (যাবতীয় মন্দ হতে)। আল্লাহ কোন খিয়ানাতকারী, অকৃতজ্ঞকে পছন্দ করেন না।
২২:৩৮

أُذِنَ لِلَّذِينَ يُقَٰتَلُونَ بِأَنَّهُمۡ ظُلِمُواْۚ وَإِنَّ ٱللَّهَ عَلَىٰ نَصۡرِهِمۡ لَقَدِيرٌ ٣٩

উযিনা লিল্লাযীনা ইয়ুক্বতালূনা বিআননাহুম জুলিমূ; ওয়া ইননাল্লহা ‘আলা নাছরিহিম লাক্বদীরু।

যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হয় তাদেরকে যুদ্ধের অনুমতি দেয়া হল, কেননা তাদের প্রতি অত্যাচার করা হয়েছে। আল্লাহ তাদেরকে সাহায্য করতে অবশ্যই সক্ষম।
২২:৩৯

ٱلَّذِينَ أُخۡرِجُواْ مِن دِيَٰرِهِم بِغَيۡرِ حَقٍّ إِلَّآ أَن يَقُولُواْ رَبُّنَا ٱللَّهُۗ وَلَوۡلَا دَفۡعُ ٱللَّهِ ٱلنَّاسَ بَعۡضَهُم بِبَعۡضٖ لَّهُدِّمَتۡ صَوَٰمِعُ وَبِيَعٞ وَصَلَوَٰتٞ وَمَسَٰجِدُ يُذۡكَرُ فِيهَا ٱسۡمُ ٱللَّهِ كَثِيرٗاۗ وَلَيَنصُرَنَّ ٱللَّهُ مَن يَنصُرُهُۥٓۚ إِنَّ ٱللَّهَ لَقَوِيٌّ عَزِيزٌ ٤٠

নিল্লাযীনা উখরিজূ মিং দিয়ারিহিম বিগইরি হাক্বক্বিন ইল্লা আইঁ ইয়াক্বূলূ রব্বুনা ল্লহু; ওয়ালাও লাদাফ্‘উল্লাহিননাসা বা‘দ্বাহুম বিবা‘দ্বিল লাহুদ্দিমাত ছওয়ামি‘উ ওয়া বিয়া‘উওঁ ওয়া ছলাওয়াতুওঁ ওয়া মাসাজিদু ইয়ুয্কারু ফীহাস্মুল্লাহি কাছীর; ওয়ালাইয়াংছুরননাল্লহু মাইঁ ইয়াংছুরুহূ; ইননাল্লহা লাক্ববিউয়্যুন ‘আঝীঝ।

তাদেরকে অন্যায়ভাবে গৃহ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে শুধু তাদের এ কথা বলার কারণে যে, ‘আল্লাহ আমাদের প্রতিপালক।’ আল্লাহ যদি মানুষদের এক দলের দ্বারা অন্য দলকে প্রতিহত না করতেন, তাহলে বিধ্বস্ত হয়ে যেত খ্রীষ্টান সংসারত্যাগীদের উপাসনালয়, গির্জা ও ইয়াহূদীদের উপাসনার স্থান আর মাসজিদসমূহ যেখানে আল্লাহর নাম অধিকহারে স্মরণ করা হয়। আল্লাহ অবশ্যই তাকে সাহায্য করেন যে তাঁকে সাহায্য করে, আল্লাহ শক্তিমান, পরাক্রান্ত।
২২:৪০

ٱلَّذِينَ إِن مَّكَّنَّٰهُمۡ فِي ٱلۡأَرۡضِ أَقَامُواْ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتَوُاْ ٱلزَّكَوٰةَ وَأَمَرُواْ بِٱلۡمَعۡرُوفِ وَنَهَوۡاْ عَنِ ٱلۡمُنكَرِۗ وَلِلَّهِ عَٰقِبَةُ ٱلۡأُمُورِ ٤١

আল্লাযীনা ইম মাক্কাননাহুম ফিল আরদ্বি আক্বমুছছালাতা ওয়াআতাউযযাকাতা ওয়া আমারূ বিল মা‘রূফি ওয়া নাহাও ‘আনিল মুংকারি; ওয়া লিল্লাহি ‘আক্বিবাতুল উমূর।

(এরা হল) যাদেরকে আমি যমীনে প্রতিষ্ঠিত করলে তারা নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত প্রদান করে, সৎ কাজের আদেশ দেয় ও মন্দ কাজে নিষেধ করে, সকল কাজের শেষ পরিণাম (ও সিদ্ধান্ত) আল্লাহর হাতে নিবদ্ধ।
২২:৪১

وَإِن يُكَذِّبُوكَ فَقَدۡ كَذَّبَتۡ قَبۡلَهُمۡ قَوۡمُ نُوحٖ وَعَادٞ وَثَمُودُ ٤٢

ওয়া ইয়্যুকাযযিবূকা ফাক্বদ কায্যাবাত ক্ববলাহুম ক্বওমু নূহিওঁ ওয়া ‘আদুওঁ ওয়া ছামূদু।

লোকেরা যদি তোমাকে অস্বীকার করে তাহলে (জেনে রেখ এটা কোন নতুন ব্যাপার নয়) তাদের পূর্বে নূহ, ‘আদ ও সামূদ সম্প্রদায়ও (তাদের রসূলদের) অস্বীকার করেছিল।
২২:৪২

وَقَوۡمُ إِبۡرَٰهِيمَ وَقَوۡمُ لُوطٖ ٤٣

ওয়া ক্বওমু ইবরহীমা ওয়া ক্বওমু লূত্বিও।

আর ইবরাহীমের সম্প্রদায় ও লূতের সম্প্রদায়ও (অস্বীকার করেছিল)।
২২:৪৩

وَأَصۡحَٰبُ مَدۡيَنَۖ وَكُذِّبَ مُوسَىٰۖ فَأَمۡلَيۡتُ لِلۡكَٰفِرِينَ ثُمَّ أَخَذۡتُهُمۡۖ فَكَيۡفَ كَانَ نَكِيرِ ٤٤

ওয়া আছহাবু মাদইয়ানা ওয়া কুযযিবা মূসা ফাআম্লাইতু লিলকাফিরীনা ছুমমা আখয্তুহুম, ফাকাইফা কানা নাকীর।

আর মাদইয়ানবাসীরাও [অস্বীকার করেছিল যারা ছিল শু‘আয়ব (আঃ)-এর সম্প্রদায়], আর মূসাকেও অস্বীকার করা হয়েছিল। আমি অস্বীকারকারীদেরকে সময়- সুযোগ দিয়েছিলাম, অতঃপর তাদেরকে পাকড়াও করেছিলাম। কত ভীষণ ছিল আমাকে অস্বীকার করার পরিণতি!
২২:৪৪

فَكَأَيِّن مِّن قَرۡيَةٍ أَهۡلَكۡنَٰهَا وَهِيَ ظَالِمَةٞ فَهِيَ خَاوِيَةٌ عَلَىٰ عُرُوشِهَا وَبِئۡرٖ مُّعَطَّلَةٖ وَقَصۡرٖ مَّشِيدٍ ٤٥

ফাকাআইয়্যিম মিং ক্বরইয়াতিন আহলাকনাহা ওয়া হিয়া জালিমাতুং ফাহিয়া খবিউয়াতুন ‘আলা ‘উরূশিহা ওয়া বি’রিম মু‘আত্ত্বালাতিওঁ ওয়া ক্বছরিম মাশীদ।

আমি কত জনবসতিকে ধ্বংস করেছি যেগুলোর অধিবাসীরা ছিল যালিম, সেগুলো ছাদের ভরে পতিত হয়ে বিধ্বস্ত হয়েছিল, বিরাণ হয়েছিল কত কূপ আর সুউচ্চ সুদৃঢ় প্রাসাদরাজি।
২২:৪৫

أَفَلَمۡ يَسِيرُواْ فِي ٱلۡأَرۡضِ فَتَكُونَ لَهُمۡ قُلُوبٞ يَعۡقِلُونَ بِهَآ أَوۡ ءَاذَانٞ يَسۡمَعُونَ بِهَاۖ فَإِنَّهَا لَا تَعۡمَى ٱلۡأَبۡصَٰرُ وَلَٰكِن تَعۡمَى ٱلۡقُلُوبُ ٱلَّتِي فِي ٱلصُّدُورِ ٤٦

আফালাম ইয়াসীরূ ফিল আরদ্বি ফাতাকূনা লাহুম ক্বুলূবুইঁ ইয়া‘কিলূনা বিহা আও আযানুইঁ ইয়াস্মা‘উনা বিহা ফাইননাহা লাতা‘মাল আবছাররু ওয়ালাকিং তা‘মাল ক্বুলূবুল্লাতী ফিচ্ছুদূর।

তারা কি যমীনে ভ্রমণ করে না? তাহলে তারা হৃদয় দিয়ে বুঝতে পারত, আর তাদের কান শুনতে পারত। প্রকৃতপক্ষে চোখ অন্ধ নয়, বরং বুকের ভিতর যে হৃদয় আছে তা-ই অন্ধ।
২২:৪৬

وَيَسۡتَعۡجِلُونَكَ بِٱلۡعَذَابِ وَلَن يُخۡلِفَ ٱللَّهُ وَعۡدَهُۥۚ وَإِنَّ يَوۡمًا عِندَ رَبِّكَ كَأَلۡفِ سَنَةٖ مِّمَّا تَعُدُّونَ ٤٧

ওয়া ইয়াসতা‘জিলূনাকা বিল ‘আযাবি ওয়া লাইঁ ইয়ুখলিফাল্লহু ওয়া‘দাহূ; ওয়া ইননা ইয়াওমান ‘ইংদা রব্বিকা কাআলফি সানাতিম মিমমাতা‘উদ্দূন।

তারা তোমাকে তাড়াতাড়ি শাস্তি নিয়ে আসতে বলে (কিন্তু শাস্তি তো আসবে আল্লাহর ও‘য়াদা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে), কেননা আল্লাহ কক্ষনো তাঁর ওয়া‘দা খেলাফ করেন না, তোমার প্রতিপালকের একদিন হল তোমাদের গণনায় এক হাজার বছরের সমান।
২২:৪৭

وَكَأَيِّن مِّن قَرۡيَةٍ أَمۡلَيۡتُ لَهَا وَهِيَ ظَالِمَةٞ ثُمَّ أَخَذۡتُهَا وَإِلَيَّ ٱلۡمَصِيرُ ٤٨

ওয়া কাআইয়্যিম মিং ক্বরইয়াতিন আমলাইতু লাহাওয়াহিয়া জালিমাতুং ছুমমা আখয্তুহা, ওয়া ইলাইয়্যাল মাছীর।

আমি কত জনপদকে সময়-সুযোগ দিয়েছি যখন তারা ছিল অন্যায় কাজে লিপ্ত। অতঃপর সেগুলোকে পাকড়াও করেছিলাম, (পালিয়ে কেউ তো কোথাও যেতে পারবে না) কেননা (সকলের) প্রত্যাবর্তন আমারই কাছে।
২২:৪৮

قُلۡ يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ إِنَّمَآ أَنَا۠ لَكُمۡ نَذِيرٞ مُّبِينٞ ٤٩

ক্বুল ইয়াআইয়্যুহাননাসু ইননামা আনালাকুম নাযীরুম মুবীন।

বল, ‘হে মানুষ! আমি (প্রেরিত হয়েছি) তোমাদের জন্য এক সুস্পষ্ট সতর্ককারীরূপে।’
২২:৪৯

فَٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَعَمِلُواْ ٱلصَّٰلِحَٰتِ لَهُم مَّغۡفِرَةٞ وَرِزۡقٞ كَرِيمٞ ٥٠

ফাল্লাযীনা আমানূ ওয়া ‘আমিলুছছালিহাতি লাহুম মাগফিরতুওঁ ওয়া রিঝ্ক্বুন কারীম।

কাজেই যারা ঈমান আনবে আর সৎ কাজ করবে তাদের জন্য কেবল আছে ক্ষমা আর সম্মানজনক জীবিকা।
২২:৫০

وَٱلَّذِينَ سَعَوۡاْ فِيٓ ءَايَٰتِنَا مُعَٰجِزِينَ أُوْلَٰٓئِكَ أَصۡحَٰبُ ٱلۡجَحِيمِ ٥١

ওয়াল্লাযীনা সা‘আও ফী আয়াতিনা মু‘আজিঝীনা উলাইকা আছহাবুল জাহীম।

আর যারা আমার নিদর্শনের বিরুদ্ধে চেষ্টা চালায়, সেগুলোর উদ্দেশ্যকে ব্যর্থ করার জন্য, তারাই হল জাহান্নামের বাসিন্দা।
২২:৫১

وَمَآ أَرۡسَلۡنَا مِن قَبۡلِكَ مِن رَّسُولٖ وَلَا نَبِيٍّ إِلَّآ إِذَا تَمَنَّىٰٓ أَلۡقَى ٱلشَّيۡطَٰنُ فِيٓ أُمۡنِيَّتِهِۦ فَيَنسَخُ ٱللَّهُ مَا يُلۡقِي ٱلشَّيۡطَٰنُ ثُمَّ يُحۡكِمُ ٱللَّهُ ءَايَٰتِهِۦۗ وَٱللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٞ ٥٢

ওয়া মা আরসালনামিং ক্ববলিকা মির রসূলিও ওয়ালা নাবিইয়্যিন ইল্লা ইযাতামাননা আলক্বশ শাইত্বনু ফী উমনিয়্যাতিহী, ফায়াংসাখুল্লহু মাইয়ুলক্বিশ শাইত্বনু ছুমমা ইয়ুহকিমু ল্লহু আয়াতিহী ওয়াল্লহু ‘আলীমুন হাকীম।

আমি তোমার পূর্বে যে সব রসূল কিংবা নবী পাঠিয়েছি তাদের কেউ যখনই কোন আকাঙ্ক্ষা করেছে তখনই শয়ত্বান তার আকাঙ্ক্ষায় (প্রতিবন্ধকতা, সন্দেহ-সংশয়) নিক্ষেপ করেছে, কিন্তু শয়ত্বান যা নিক্ষেপ করে আল্লাহ তা মুছে দেন, অতঃপর আল্লাহ তাঁর নিদর্শনসমূহকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। কারণ আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সর্বশ্রেষ্ঠ হিকমতওয়ালা।
২২:৫২

لِّيَجۡعَلَ مَا يُلۡقِي ٱلشَّيۡطَٰنُ فِتۡنَةٗ لِّلَّذِينَ فِي قُلُوبِهِم مَّرَضٞ وَٱلۡقَاسِيَةِ قُلُوبُهُمۡۗ وَإِنَّ ٱلظَّٰلِمِينَ لَفِي شِقَاقِۭ بَعِيدٖ ٥٣

লিয়াজ্‘আলা মাইয়ুলক্বিশ শাইত্বনু ফিতনাতাল্লিল্লাযীনা ফী কুলূবিহিম মারদুও ওয়াল কাসিয়াতি ক্বুলূবুহুম, ওয়া ইননাজ্জ্বালিমীনা লাফী শিক্বক্বিম বা‘ইদিও।

(তিনি এটা হতে দেন এজন্য) যাতে তিনি শয়ত্বান যা মিশিয়ে দিয়েছে তা দ্বারা পরীক্ষা করতে পারেন তাদেরকে যাদের অন্তরে (মুনাফিকীর) ব্যাধি আছে, যারা শক্ত হৃদয়ের। অন্যায়কারীরা চরম মতভেদে লিপ্ত আছে।
২২:৫৩

وَلِيَعۡلَمَ ٱلَّذِينَ أُوتُواْ ٱلۡعِلۡمَ أَنَّهُ ٱلۡحَقُّ مِن رَّبِّكَ فَيُؤۡمِنُواْ بِهِۦ فَتُخۡبِتَ لَهُۥ قُلُوبُهُمۡۗ وَإِنَّ ٱللَّهَ لَهَادِ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ إِلَىٰ صِرَٰطٖ مُّسۡتَقِيمٖ ٥٤

ওয়া লিয়া‘লামা ল্লাযীনা উতুল ‘ইলমা আননাহুল হাক্কু মির রব্বিকা ফায়ু’মিনূ বিহী ফাতুখ্বিতা লাহূ কুলূবুহুম ওয়া ইননাল্লহা লাহাদিল্লাযীনা আমানূ ইলা ছিরত্বিম মুসতাক্বীম।

(আর অপরদিকে) যাতে, যাদেরকে জ্ঞান দেয়া হয়েছে তারা জানতে পারে যে, এটা তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে (প্রেরিত) সত্য, অতঃপর তারা যেন তাতে বিশ্বাসী হয় আর তাদের অন্তর নম্রতাভরে তার প্রতি খুলে দেয়া হয়, কারণ আল্লাহ ঈমানদারদেরকে অবশ্যই সঠিক পথে পরিচালিত করেন।
২২:৫৪

وَلَا يَزَالُ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ فِي مِرۡيَةٖ مِّنۡهُ حَتَّىٰ تَأۡتِيَهُمُ ٱلسَّاعَةُ بَغۡتَةً أَوۡ يَأۡتِيَهُمۡ عَذَابُ يَوۡمٍ عَقِيمٍ ٥٥

ওয়ালা ইয়াযালুল্লাযীনা কাফারূ ফী মিরয়াতিম মিনহু হাত্তাতা’তিয়াহুমুচ্ছা‘আতু বাগতাতান আও ইয়া’তিয়াহুম ‘আযাবু ইয়াওমিন ‘আক্বীম।

অবিশ্বাসীরা তাতে (অর্থাৎ ওয়াহীতে) সন্দেহ পোষণ করা থেকে বিরত হবে না যতক্ষণ না কিয়ামাত আসবে হঠাৎ ক’রে অথবা তাদের উপর শাস্তি এসে যাবে এক বন্ধ্যা দিনে (যা কাফিরদেরকে কোন সুফল দিবে না)।
২২:৫৫

ٱلۡمُلۡكُ يَوۡمَئِذٖ لِّلَّهِ يَحۡكُمُ بَيۡنَهُمۡۚ فَٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَعَمِلُواْ ٱلصَّٰلِحَٰتِ فِي جَنَّٰتِ ٱلنَّعِيمِ ٥٦

আলমুলকু ইয়াওমাইযিল লিল্লাহি; ইয়াহ্কুমু বাইনাহুম, ফাল্লাযীনা আমানূ ওয়া ‘আমিলুছছালিহাতি ফী জাননাতিননা‘ইম।

ক্ষমতা-আধিপত্য সেদিন হবে আল্লাহরই, তিনি তাদের মাঝে বিচার-ফয়সালা করবেন। অতঃপর যারা ঈমান আনে ও সৎ কাজ করে তারা থাকবে নি‘মাতরাজিতে পরিপূর্ণ জান্নাতে।
২২:৫৬

وَٱلَّذِينَ كَفَرُواْ وَكَذَّبُواْ بِـَٔايَٰتِنَا فَأُوْلَٰٓئِكَ لَهُمۡ عَذَابٞ مُّهِينٞ ٥٧

ওয়াল্লাযীনা কাফারূ ওয়া কায্যাবূ বিআয়াতিনা ফাউলাইকা লাহুম ‘আযাবুম মুহীন।

আর যারা কুফুরী করে আর আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যে জেনে প্রত্যাখ্যান করে তাদের জন্য আছে অপমানজনক শাস্তি।
২২:৫৭

وَٱلَّذِينَ هَاجَرُواْ فِي سَبِيلِ ٱللَّهِ ثُمَّ قُتِلُوٓاْ أَوۡ مَاتُواْ لَيَرۡزُقَنَّهُمُ ٱللَّهُ رِزۡقًا حَسَنٗاۚ وَإِنَّ ٱللَّهَ لَهُوَ خَيۡرُ ٱلرَّٰزِقِينَ ٥٨

ওয়াল্লাযীনা হাজারূ ফী সাবীলিল্লাহি ছুমমা ক্বুতিলূআও মাতূ লায়ার্যুক্বাননাহুমুল্লহু রিযক্বন হাসানা; ওয়া ইননা ল্লহা লাহুওয়া খইরুর রঝিক্বীন।

আর যারা আল্লাহর পথে হিজরাত করেছে, অতঃপর নিহত হয়েছে, কিংবা মারা গেছে, আল্লাহ তাদেরকে অবশ্য অবশ্যই উৎকৃষ্ট রিযক্ দান করবেন, আর আল্লাহ- তিনি তো সর্বোত্তম রিযকদাতা।
২২:৫৮

لَيُدۡخِلَنَّهُم مُّدۡخَلٗا يَرۡضَوۡنَهُۥۚ وَإِنَّ ٱللَّهَ لَعَلِيمٌ حَلِيمٞ ٥٩

লায়ুদখিলাননাহুম মুদখালাইঁ ইয়ারদ্বাওনাহূ; ওয়া ইননাল্লহা লা‘আলীমুন হালীম।

তিনি তাদেরকে অবশ্য অবশ্যই দাখিল করবেন এমন জায়গায় যা পেয়ে তারা খুবই সন্তুষ্ট হবে, আর আল্লাহ নিশ্চিতই অবশ্যই সর্বজ্ঞ, পরম সহিষ্ণু।
২২:৫৯

۞ ذَٰلِكَۖ وَمَنۡ عَاقَبَ بِمِثۡلِ مَا عُوقِبَ بِهِۦ ثُمَّ بُغِيَ عَلَيۡهِ لَيَنصُرَنَّهُ ٱللَّهُۚ إِنَّ ٱللَّهَ لَعَفُوٌّ غَفُورٞ ٦٠

যালিকা ওয়ামান ‘আক্ববা বিমিছ্লি মা ‘উক্বিবা বিহী ছুমমা বুগিয়া ‘আলাইহি লায়াংছুরননাহুল্লহু ইননাল্লহা লা‘আফুওউন গফূর।

এতো হল তাদের অবস্থা, আর যে ব্যক্তি আঘাতপ্রাপ্ত হলে সমপরিমাণ প্রতিশোধ গ্রহণ করে, অতঃপর আবার সে নিপীড়িত হয়, আল্লাহ তাকে অবশ্য অবশ্যই সাহায্য করবেন, আল্লাহ অবশ্যই মাফকারী ক্ষমাশীল।
২২:৬০

ذَٰلِكَ بِأَنَّ ٱللَّهَ يُولِجُ ٱلَّيۡلَ فِي ٱلنَّهَارِ وَيُولِجُ ٱلنَّهَارَ فِي ٱلَّيۡلِ وَأَنَّ ٱللَّهَ سَمِيعُۢ بَصِيرٞ ٦١

যালিকা বিআননাল্লহা ইয়ূলিজুল লাইলা ফিননাহারি ওয়া ইয়ূলিজুননাহার ফী ল্লাইলি ওয়া আননাল্লহা সামী‘উম বাছীর।

এটা এজন্য যে, আল্লাহ রাতকে ঢুকিয়ে দেন দিনে, আর দিনকে ঢুকিয়ে দেন রাতে (দুঃখ বেদনার অন্ধকার দূর করে আনন্দের আলো এনে দেন আর আনন্দিত জনকে দুঃখের অাঁধারে ডুবিয়ে দেন)। আর আল্লাহ তো সব কিছু শোনেন, সব কিছু দেখেন।
২২:৬১

ذَٰلِكَ بِأَنَّ ٱللَّهَ هُوَ ٱلۡحَقُّ وَأَنَّ مَا يَدۡعُونَ مِن دُونِهِۦ هُوَ ٱلۡبَٰطِلُ وَأَنَّ ٱللَّهَ هُوَ ٱلۡعَلِيُّ ٱلۡكَبِيرُ ٦٢

যালিকা বিআননাল্লহা হুওয়াল হাক্বক্বু ওয়া আননা মাইয়াদ্‘উনা মিং দূনিহী হুওয়াল বাত্বিলূ ওয়া আননাল্লহা হুওয়াল ‘আলিয়্যুল কাবীর।

এজন্য যে, আল্লাহ- তিনিই সত্য, আর তাঁকে বাদ দিয়ে তারা অন্য যাকে ডাকে তা অলীক, অসত্য, আর আল্লাহ, তিনি তো সর্বোচ্চ, সুমহান।
২২:৬২

أَلَمۡ تَرَ أَنَّ ٱللَّهَ أَنزَلَ مِنَ ٱلسَّمَآءِ مَآءٗ فَتُصۡبِحُ ٱلۡأَرۡضُ مُخۡضَرَّةًۚ إِنَّ ٱللَّهَ لَطِيفٌ خَبِيرٞ ٦٣

আলাম তার আননা ল্লহা আংযালা মিনাচ্ছামাই মাআং ফাতুছবিহুল আরদ্বু মুখদ্বাররতান; ইননাল্লহা লাত্বীফুন খবীর।

তুমি কি লক্ষ্য কর না যে, আল্লাহ আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন, যার ফলে পৃথিবী সবুজে আচ্ছাদিত হয়ে যায়, নিশ্চয় আল্লাহ সূক্ষ্ণদর্শী, সর্ববিষয়ে ওয়াকিফহাল।
২২:৬৩

لَّهُۥ مَا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِي ٱلۡأَرۡضِۚ وَإِنَّ ٱللَّهَ لَهُوَ ٱلۡغَنِيُّ ٱلۡحَمِيدُ ٦٤

লাহূ মা ফিচ্ছামাওয়াতি ওয়ামাফিল আরদ্বি; ওয়া ইননাল্লহা লাহুওয়াল গনিয়্যুল হামীদ।

আকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই তাঁর, আর আল্লাহ, তিনি যাবতীয় অভাব থেকে মুক্ত, যাবতীয় প্রশংসার অধিকারী।
২২:৬৪

أَلَمۡ تَرَ أَنَّ ٱللَّهَ سَخَّرَ لَكُم مَّا فِي ٱلۡأَرۡضِ وَٱلۡفُلۡكَ تَجۡرِي فِي ٱلۡبَحۡرِ بِأَمۡرِهِۦ وَيُمۡسِكُ ٱلسَّمَآءَ أَن تَقَعَ عَلَى ٱلۡأَرۡضِ إِلَّا بِإِذۡنِهِۦٓۚ إِنَّ ٱللَّهَ بِٱلنَّاسِ لَرَءُوفٞ رَّحِيمٞ ٦٥

আলাম তার আননাল্লহা সাখখার লাকুম মাফিল আরদ্বি ওয়াল ফুলকা তাজরী ফিল বাহরি বিআমরিহী ওয়া ইয়ুমসিকুচ্ছামাআ আং তাক্ব‘আ ‘আলাল আরদ্বি ইল্লা বিইয্নিহী; ইননাল্লহা বিননাসি লারউফুর রহীম।

তুমি কি লক্ষ্য কর না যে, পৃথিবীতে যা কিছু আছে সব তিনি তোমাদের কল্যাণ-কাজে লাগিয়ে রেখেছেন। আর নৌযানগুলো সমুদ্রে চলাচল করে তাঁর হুকুমেই? তিনিই আকাশকে স্থির রাখেন যাতে তা পৃথিবীতে পতিত না হয় তাঁর অনুমতি ছাড়া। আল্লাহ মানুষের প্রতি নিশ্চিতই বড়ই করুণাশীল, বড়ই দয়াবান।
২২:৬৫

وَهُوَ ٱلَّذِيٓ أَحۡيَاكُمۡ ثُمَّ يُمِيتُكُمۡ ثُمَّ يُحۡيِيكُمۡۗ إِنَّ ٱلۡإِنسَٰنَ لَكَفُورٞ ٦٦

ওয়া হুওয়াল্লাযী আহ্য়াকুম ছুমমা ইয়ুমীতুকুম ছুমমা ইয়ুহ্য়ীকুম; ইননাল ইংসানা লাকাফূর।

তিনিই তোমাদেরকে জীবন দিয়েছেন, অতঃপর তিনিই তোমাদের মৃত্যু ঘটাবেন, অতঃপর আবার তোমাদেরকে জীবন দিবেন। মানুষ সত্যিই বড়ই অকৃতজ্ঞ।
২২:৬৬

لِّكُلِّ أُمَّةٖ جَعَلۡنَا مَنسَكًا هُمۡ نَاسِكُوهُۖ فَلَا يُنَٰزِعُنَّكَ فِي ٱلۡأَمۡرِۚ وَٱدۡعُ إِلَىٰ رَبِّكَۖ إِنَّكَ لَعَلَىٰ هُدٗى مُّسۡتَقِيمٖ ٦٧

লিকুল্লি উমমাতিং জা‘আলনা মাংসাকান হুম নাসিকূহু ফালাইয়ুনাঝি‘উননাকা ফিল আমরি ওয়াদ্‘উ ইলা রব্বিকা; ইননাকা লা‘আলা হুদাম মুসতাক্বীম।

প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য আমি (‘ইবাদাতের) নিয়ম-কানুন নির্ধারণ করে দিয়েছি যা তারা অনুসরণ করে। কাজেই তারা যেন এ বিষয়ে তোমার সঙ্গে তর্ক বিতর্ক না করে। তুমি (তাদেরকে) তোমার প্রতিপালকের দিকে ডাক, তুমি অবশ্যই সরল সঠিক পথে আছ।
২২:৬৭

وَإِن جَٰدَلُوكَ فَقُلِ ٱللَّهُ أَعۡلَمُ بِمَا تَعۡمَلُونَ ٦٨

ওয়া ইং জাদালূকা ফাকুলিল্লহু আ‘লামু বিমা তা‘মালূন।

তারা যদি তোমার সঙ্গে বিতর্ক করে তাহলে বল- তোমরা যা কর আল্লাহ তা ভাল করেই জানেন।
২২:৬৮

ٱللَّهُ يَحۡكُمُ بَيۡنَكُمۡ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِ فِيمَا كُنتُمۡ فِيهِ تَخۡتَلِفُونَ ٦٩

আল্লহু ইয়াহ্কুমু বাইনাকুম ইয়াওমাল ক্বিয়ামাতি ফীমা কুংতুম ফীহি তাখতালিফূন।

আল্লাহ কিয়ামাতের দিন সে বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মীমাংসা করে দিবেন যে বিষয়ে তোমরা মতভেদ করছ।
২২:৬৯

أَلَمۡ تَعۡلَمۡ أَنَّ ٱللَّهَ يَعۡلَمُ مَا فِي ٱلسَّمَآءِ وَٱلۡأَرۡضِۚ إِنَّ ذَٰلِكَ فِي كِتَٰبٍۚ إِنَّ ذَٰلِكَ عَلَى ٱللَّهِ يَسِيرٞ ٧٠

আলাম তা‘লাম আননাল্লহা ইয়া‘লামু মাফিচ্ছামাই ওয়াল আরদ্বি, ইননা যালিকা ফী কিতাবিন, ইননা যালিকা ‘আলা ল্লাহি ইয়াসীর।

তুমি কি জান না যে, আল্লাহ জানেন যা আছে আকাশে আর পৃথিবীতে, এ সবই লিপিতে (রেকর্ডে) আছে। এটা আল্লাহর পক্ষে সহজ।
২২:৭০

وَيَعۡبُدُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ مَا لَمۡ يُنَزِّلۡ بِهِۦ سُلۡطَٰنٗا وَمَا لَيۡسَ لَهُم بِهِۦ عِلۡمٞۗ وَمَا لِلظَّٰلِمِينَ مِن نَّصِيرٖ ٧١

ওয়া ইয়া‘বুদূনা মিং দূনিল্লাহি মালাম ইয়ুনাযযিল বিহী সুলত্বনাওঁ ওয়া মা লাইসা লাহুম বিহী ‘ইলমুন; ওয়া মালিজ্জালিমীনা মিন নাছীর।

আর তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমন কিছুকে ডাকে যার সমর্থনে তিনি কোন দলীল পাঠাননি আর যে সম্পর্কে তাদের কোন জ্ঞান নেই। (এসব) যালিমদের কোন সাহায্যকারী নেই।
২২:৭১

وَإِذَا تُتۡلَىٰ عَلَيۡهِمۡ ءَايَٰتُنَا بَيِّنَٰتٖ تَعۡرِفُ فِي وُجُوهِ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ ٱلۡمُنكَرَۖ يَكَادُونَ يَسۡطُونَ بِٱلَّذِينَ يَتۡلُونَ عَلَيۡهِمۡ ءَايَٰتِنَاۗ قُلۡ أَفَأُنَبِّئُكُم بِشَرّٖ مِّن ذَٰلِكُمُۚ ٱلنَّارُ وَعَدَهَا ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْۖ وَبِئۡسَ ٱلۡمَصِيرُ ٧٢

ওয়া ইযা তুলতা ‘আলাইহিম আয়াতুনা বাইয়্যিনাতিং তা‘রিফু ফী উজূহিল্লাযীনা কাফারুল মুংকার; ইয়াকাদূনা ইয়াস্ত্বূনা বিল্লাযীনা ইয়াতলূনা ‘আলাইহিম আয়াতিনা ক্বুল আফাউনাব্বিউকুম বিশাররিম মিং যালিকুম; আননারু, ওয়া‘আদাহাল্লহুল্লাযীনা কাফারূ; ওয়া বি’সাল মাছীর।

আর তাদের সম্মুখে যখন আমার সুস্পষ্ট আয়াত তিলাওয়াত করা হয় তখন তুমি কাফিরদের চেহারায় একটা অনীহার ভাব দেখতে পাবে। তাদের কাছে যারা আমার আয়াত তিলাওয়াত করে তাদেরকে তারা আক্রমণ করতে উদ্যত হয়। বল, তাহলে আমি কি তোমাদেরকে এর চেয়েও খারাপ কিছুর সংবাদ দেব? তা হল আগুন। আল্লাহ কাফিরদেরকে এর ওয়া‘দা দিয়েছেন। আর তা কতই না নিকৃষ্ট প্রত্যাবর্তনস্থল!
২২:৭২

يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ ضُرِبَ مَثَلٞ فَٱسۡتَمِعُواْ لَهُۥٓۚ إِنَّ ٱلَّذِينَ تَدۡعُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ لَن يَخۡلُقُواْ ذُبَابٗا وَلَوِ ٱجۡتَمَعُواْ لَهُۥۖ وَإِن يَسۡلُبۡهُمُ ٱلذُّبَابُ شَيۡـٔٗا لَّا يَسۡتَنقِذُوهُ مِنۡهُۚ ضَعُفَ ٱلطَّالِبُ وَٱلۡمَطۡلُوبُ ٧٣

ইয়া আইয়্যুহাননাসু দ্বুরিবা মাছালুং ফাসতামি‘উলাহূ; ইননাল্লাযীনা তাদ্‘উনা মিং দূনিল্লাহি লাইঁ ইয়াখলুক্বূ যুবাবাওঁ ওয়া লাবিউজতামা‘উলাহূ; ওয়া ইয়্যাস্লুব্হুমুয যুবাবু শাইআল লাইয়াস্তাংক্বিযূহু মিনহু; দ্বা‘উফাত্ব ত্বলিবু ওয়াল মাত্বলূব।

হে মানুষ! একটা দৃষ্টান্ত পেশ করা হচ্ছে, সেটা মনোযোগ দিয়ে শোন। আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যাদেরকে ডাক তারা কক্ষনো একটা মাছিও সৃষ্টি করতে পারে না, এজন্য তারা সবাই একত্রিত হলেও। আর মাছি যদি তাদের কাছ থেকে কিছু ছিনিয়ে নিয়ে যায়, তারা তার থেকে তা উদ্ধারও করতে পারে না, প্রার্থনাকারী আর যার কাছে প্রার্থনা করা হয় উভয়েই দুর্বল।
২২:৭৩

مَا قَدَرُواْ ٱللَّهَ حَقَّ قَدۡرِهِۦٓۚ إِنَّ ٱللَّهَ لَقَوِيٌّ عَزِيزٌ ٧٤

মা ক্বদারুল্লহা হাক্বক্ব ক্বদরিহী; ইননাল্লহা, লাক্ববিউয়্যুন ‘আঝীঝ।

তারা আল্লাহর যথাযোগ্য মর্যাদা দেয় না, আল্লাহ নিশ্চিতই ক্ষমতাশালী, মহা পরাক্রান্ত।
২২:৭৪

ٱللَّهُ يَصۡطَفِي مِنَ ٱلۡمَلَٰٓئِكَةِ رُسُلٗا وَمِنَ ٱلنَّاسِۚ إِنَّ ٱللَّهَ سَمِيعُۢ بَصِيرٞ ٧٥

আল্লহু ইয়াছত্বাফী মিনাল মালাইকাতি রুসুলাও ওয়া মিনা ননাসি, ইননাল্লহা সামী‘উম বাছীর।

আল্লাহ ফেরেশতাগণের মধ্য হতে বাণীবাহক মনোনীত করেন আর মানুষদের মধ্য হতেও, আল্লাহ সব কিছু শোনেন, সব কিছু দেখেন।
২২:৭৫

يَعۡلَمُ مَا بَيۡنَ أَيۡدِيهِمۡ وَمَا خَلۡفَهُمۡۚ وَإِلَى ٱللَّهِ تُرۡجَعُ ٱلۡأُمُورُ ٧٦

ইয়া‘লামু মা বাইনা আইদীহিম ওয়ামা খলফাহুম ওয়া ইলাল্লাহি তুরজা‘উল উমূর।

তিনি জানেন তাদের সামনে যা আছে আর তাদের পেছনে যা আছে, আর সমস্ত ব্যাপার (চূড়ান্ত ফয়সালার জন্য) আল্লাহর কাছে ফিরে যায়।
২২:৭৬

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱرۡكَعُواْ وَٱسۡجُدُواْۤ وَٱعۡبُدُواْ رَبَّكُمۡ وَٱفۡعَلُواْ ٱلۡخَيۡرَ لَعَلَّكُمۡ تُفۡلِحُونَ ۩ ٧٧

ইয়া আইয়্যুহাল্লাযীনা আমানুর্কা‘উওয়াস্জুদূ ওয়া‘বুদূ রব্বাকুম ওয়াফ্‘আলুল খইর লা‘আল্লাকুম তুফলিহূন।

হে মু’মিনগণ! তোমরা রুকূ‘ কর, সেজদা কর আর তোমাদের প্রতিপালকের ‘ইবাদাত কর ও সৎকাজ কর যাতে তোমরা সাফল্য লাভ করতে পার। [সাজদাহ]
২২:৭৭

وَجَٰهِدُواْ فِي ٱللَّهِ حَقَّ جِهَادِهِۦۚ هُوَ ٱجۡتَبَىٰكُمۡ وَمَا جَعَلَ عَلَيۡكُمۡ فِي ٱلدِّينِ مِنۡ حَرَجٖۚ مِّلَّةَ أَبِيكُمۡ إِبۡرَٰهِيمَۚ هُوَ سَمَّىٰكُمُ ٱلۡمُسۡلِمِينَ مِن قَبۡلُ وَفِي هَٰذَا لِيَكُونَ ٱلرَّسُولُ شَهِيدًا عَلَيۡكُمۡ وَتَكُونُواْ شُهَدَآءَ عَلَى ٱلنَّاسِۚ فَأَقِيمُواْ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتُواْ ٱلزَّكَوٰةَ وَٱعۡتَصِمُواْ بِٱللَّهِ هُوَ مَوۡلَىٰكُمۡۖ فَنِعۡمَ ٱلۡمَوۡلَىٰ وَنِعۡمَ ٱلنَّصِيرُ ٧٨

ওয়া জাহিদূ ফিল্লাহি হাক্বক্বজিহাদিহী; হুওয়াজ্তাবাকুম ওয়ামাজা‘আলা ‘আলাইকুম ফিদ্দীনি মিন হারজ; মিল্লাতা আবীকুম ইবরহীমা, হুওয়া সামমাকুমুল মুসলিমীনা মিং ক্ববলু ওয়া ফী হাযা লিয়াকূনার রসূলু শাহীদান ‘আলাইকুম ওয়া তাকূনূ শুহাদাআ ‘আলাননাসি ফাআক্বীমুছছালাতা ওয়া আতুযযাকাতা ওয়া‘তাছিমূ বিল্লাহি, হুওয়া মাওলাকুম ফানি‘মাল মাওলাওয়া নি‘মান নাছীর।

আর আল্লাহর পথে জিহাদ কর যেভাবে জিহাদ করা উচিত। তিনি তোমাদেরকে বেছে নিয়েছেন। দ্বীনের ভিতর তিনি তোমাদের উপর কোন কঠোরতা চাপিয়ে দেননি। এটাই তোমাদের পিতা ইবরাহীমের দ্বীন, আল্লাহ তোমাদের নাম রেখেছেন ‘মুসলিম’ পূর্বেও, আর এ কিতাবেও (ঐ নামই দেয়া হয়েছে) যাতে রসূল তোমাদের জন্য সাক্ষী হয় আর তোমরা সাক্ষী হও মানব জাতির জন্য। কাজেই তোমরা নামায প্রতিষ্ঠা কর, যাকাত দাও আর আল্লাহকে আঁকড়ে ধর। তিনিই তোমাদের অভিভাবক। কতই না উত্তম অভিভাবক আর কতই না উত্তম সাহায্যকারী!
২২:৭৮
Mosque

আল হাজ্জ্ব

৭৮ আয়াত